নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ | 0 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: ডোমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেডের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে থাকা ৩০ লাখ ৭৮ হাজার শেয়ার নতুন মালিকদের নামে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আগামী সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ডিএসইকে পাঠানো চিঠিতে বিএসইসি জানিয়েছে, শেয়ারগুলো বর্তমানে নিষিদ্ধ বা বিধিনিষেধের সময়ের (প্রোহিবিটরি পিরিয়ড) মধ্যে থাকলেও সেগুলো হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই। কারণ, নতুন মালিকপক্ষ বিদ্যমান হস্তান্তরকারীদের সব শেয়ার কিনে নিয়ে কোম্পানির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থানান্তরিত শেয়ারগুলো নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ‘লক-ইন’ অবস্থায় থাকবে। ফলে এসব শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে না এবং এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও নেই।
এর আগে বিএসইসি আইন, ২০০২-এর অধীনে ‘সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষেধাজ্ঞা’ সংক্রান্ত বিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি হওয়ায় শেয়ার হস্তান্তরের অনুমোদন বিষয়ে বিএসইসির নির্দেশনা চেয়েছিল ডিএসই। এ বিষয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ডিএসইর পাঠানো চিঠির জবাবে কমিশন জানায়, বিশেষ ধরনের এই লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ শিথিল করার সুযোগ রয়েছে।
এরও আগে, গত ২৭ আগস্ট ডোমিনেজ স্টিলের প্রায় ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড, শেখ জসিম উদ্দিন এবং ফারিয়া হোসেনের নামে স্থানান্তরের বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে প্রাথমিক অনুমোদন দেয় বিএসইসি।
প্রস্তাবিত এই শেয়ার লেনদেন সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) বাই-ল ১১.৬ অনুসরণ করে অফ-মার্কেট আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল ডোমিনেজ স্টিলের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ার বিক্রির প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছিল।
দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ও পরিচালনাগত বিভিন্ন সংকটের মধ্যে রয়েছে ডোমিনেজ স্টিল। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে কোম্পানিটির রাজস্ব আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৪ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
একই সময়ে কোম্পানিটি ৯৪ লাখ টাকা নিট লোকসান করেছে। এর ফলে ওই সময়ের জন্য কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৯ পয়সায়।
কোম্পানিটির কারখানা পরিচালনা নিয়েও এর আগে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গত ২০২৫ সালের শেষ দিকে ডিএসইর একটি পরিদর্শন দল নরসিংদীতে অবস্থিত ডোমিনেজ স্টিলের কারখানাটি বন্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তখন জানিয়েছিল, তাদের সাভারে অবস্থিত ইউনিটটি চালু রয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, ডোমিনেজ স্টিলের ব্যবসা প্রজেক্টভিত্তিক হওয়ায় সব কারখানায় সবসময় ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন চালু রাখার প্রয়োজন হয় না।
বিএসইসির সর্বশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ ডোমিনেজ স্টিলের মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া আরও স্পষ্টভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন বিনিয়োগকারীরা শেয়ারগুলোর পূর্ণ মালিকানা নিয়ে কোম্পানির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্থিক ও পরিচালনাগত সংকটে থাকা ডোমিনেজ স্টিলকে কীভাবে পুনরায় লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারেন, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
Posted ১১:৪৩ পিএম | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.